Avatar

প্রসঙ্গ ঈশ্বর

বিশ্বজিৎ হালদার

শিরোনামে আসার মত প্রবৃত্তি যে মানুষটার কোনো দিন ছিল না, তার পরিচয় আজ নাস্তিক । অনেকগুলো শতাব্দি কেটে গেছে তবু সেদিনের মতোই প্রগতিশীল সভ্যতায় বিশ্বাস বা কুসংস্কারের দাস হয়ে মানুষ আজও মেতে থাকে মন্দির, মসজিদ, ও চার্চে। আমাদের গ্রামে পশ্চিম কোনে শিব মন্দিরে সবাই নিয়মিত পুজোয় ভিড় করে শ্রাবণ মাসে। আমতলার মাচায় তাস পেটানো ছেলেটিও দেখি মাঝে মাঝে পুজো দিতে যায়। ভজন পাল সারাজীবন লোক ঠকিয়ে খায়, অথচ তার তিন তলা বাড়ি ,ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে ।তার ঘরে কোন অসুখ নেই অথচ ওই পাড়ার দীপু যার দিন আনে দিন যায় ওর মস্ত বড় অসুখ হয়েছে ,রোগটার নাম নাকি ক্যান্সার !অনেক টাকা লাগবে তাও বাঁচবে কি কেউ জানে, সে শুধু দিন গুনছে শেষ প্রশ্বাসের.।তপন গোসাই সারা জীবন জরিবুটি দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচিয়ে গেল অকালে সাপের কামড়ে মারা গেল । সেদিন রাস্তা দিয়ে একটা বাচ্চা ছেলে ছুটছিল কোনরকম দুর্ঘটনা থেকে বাঁচালাম তাকে ;বাচ্চাটার মা তাকে আগলে ধরে বলল ,আপনাকে ধন্যবাদ ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুক। উত্তরটা এখনই করছিস খুঁজছি,,,,,,,,,,,,, ঈশ্বর?? অকালে কেউ মারা গেলে বেঙ্গলি সবাই বলে এটাতো নিয়তি ,তবে তাই যদি হবে কার দুয়ারে বসে থাকো? আমি প্রতিদিন গীতা পাঠ করি, বেদ কোরান রামায়ণ মহাভারত সবকিছুতে খুঁজি ঈশ্বর কে একটা মুসলিম বন্ধুর হাতে জল পান করেছিলাম বলে ঠাকুমা আমাকে একশো বার গঙ্গাস্নান করিয়েছিল। একটা খ্রিস্টান বন্ধুকে জড়িয়ে ধরেছিলাম বলে গ্রামের মোড়লরা আমাকে একঘরে করবে বলেছিল । এত বিভেদের মধ্যেও আমি কখন ঈশ্বরকে , আল্লাহ, কিম্বা যীশু কে খুঁজে পাইনি । অগাধ শূন্যতায় ভাবনার বিশুদ্ধতায় খুঁজি প্রত্যাশার সেই জীবকে। মন্ডপে গিয়ে দেখি প্রতিমাকে , সবাই খোঁজে হাজার জাকজঁমকতা , থাল বোঝায় মিষ্টান্ন, নাম রেখেছে প্রসাদ। বিচার-বিবেচনার কাছে আমি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারি আর কখনো মনে হয়নি ঈশ্বর বলে কোন শব্দের সাথে আমার পরিচয় থাক সেদিন এক ভিখিরি তার ঈশ্বরের নাম করতে করতে আমাকে বলল বাবা আমাকে দুটো টাকা দেবে আমি বলেছিলাম না তোমার ঈশ্বরের কাছে চাও। এখনো খুঁজি ,,,,,,

Click Here Clap

No. of Clap : 0

Total Comments:0

Please Login to give comment