Avatar

জীবন এবং জীবনবোধ

Manojit Datta

অতঃপর, কাঁচা মাটির তালে শিল্পীর মূর্তি বানাইবার কাজ প্রায় শেষ হইবার পথে। ক্রমেই স্পষ্ট ফুটিয়া উঠিতেছে চোখ - নাক - কান এইসব। রঙ-তুলির শেষ টানে যাবতীয় কর্মকান্ড শেষ হইবে ক্ষণিকের মধ্যেই। শেষ হইল - মূর্তি তৈরীর কাজ। শেষতো হইল বটে কিন্তু সম্পূর্ণ হইল কই? শিল্পী মহোদয়তো হৃদপিন্ড বানাইলেন না। আর, বানাইলেই বা কী হইত? ইহাতে কী হৃদস্পন্দন হইত! হইত কী রক্ত সঞ্চালন? প্রাণের প্রতিষ্ঠা ! না, এই কাজ শিল্পীর কারিগরি বিদ্যায় নাই। ইহা রপ্ত করা কাহারও পক্ষে সম্ভব নহে - তা তিনি যত বড় শিল্পী বা বিজ্ঞানীই হউন না কেন। এই মাটির মূর্তিতেই প্রাণের প্রতিষ্ঠা হইবে - অনুরাগীদের পরম বিশ্বাসে-শ্রদ্ধায়-উপলব্ধিতে। মানুষের বিশ্বাসেই এই চোখ দেখিতে পাইবে জাগতিক বিশ্ব, কানে শুনিতে পাইবে সভ্যতার যাবতীয় সচল কিংবা নিশ্চল শব্দ কিংবা তৎসম্পর্কীয় চুপকথন। এই নাকেই অনুভূত হইবে জীবন কিংবা জীবনযুদ্ধের গন্ধ। সন্ধ্যায় শিল্পী মহোদয় দেখিয়া গেলেন - নিতান্তই পেশাগত কারণে মাটির তালে তিনি যে মূর্তি বানাইয়া ছিলেন, এই মানুষগুলি তাহাতে কি করিয়া প্রাণের স্পন্দন জাগাইয়া তুলিয়াছে। হৃদপিন্ড বিশ্বাসে ভরিয়া উঠিলে এমনি করিয়া কত কিছুইনা করা যাইত। আহা, কত যুদ্ধইনা জয় করা যাইত। এতসবের পরেও মানুষ ক্রমশই পারস্পরিক বিশ্বাস হারাইতেছে কেন! এখন তো মানুষ নিজের উপরেও আর বিশ্বাস রাখিতে পারিতেছে না। বিশ্বাসের অভাবেই বোধ করি বিশ্বজুড়িয়া চলমান জীবন হইতে ক্রমে ক্রমেই জীবনবোধ কমিয়া আসিতেছে। জীবন কতজন কাটাইতেছেন জানিনা, কেহ কেহ কেবলমাত্র জীবনের ভার বহন করিতেছেন - কেহ কেহ আবার জীবনের জাবর কাটিতেছেন অলস বিলাসে ...

Click Here Clap

No. of Clap : 2

Total Comments:0

Please Login to give comment

Aranyak
NILESH GAYEN