Avatar

# পূজারিণী # (পার্থ রায়)

Partha Ray

অনেক দিন হয়ে গেছে। নিপা কোন একটা মেলা থেকে রবি ঠাকুরের অর্ধবক্ষের মাটির মূর্তিটা শাশুড়িমাকে এনে দিয়েছিল। উনি তখনকার দিনের ম্যাট্রিক পাশ। প্রতি বছর ২৫শে বৈশাখ সকালের চায়ের পরে অভয়ের মা ইন্দুবালা সেই মূর্তিটাকে পুরনো একটা ট্রাঙ্ক থেকে বের করে নরম কাপড় দিয়ে পরম যত্নে মুছতেন। তারপরে ছেলেকে অথবা নাতিকে বলতেন, “একটা মালা এনে দিস। মনে আছে আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন? ধূপকাঠি না আনলেও চলবে। ঠাকুরের আসন থেকে নিয়ে নেব খন”। খুব বড় মালা আনা যেত না। কারণ বিশ্বকবির মূর্তিটা ইঞ্চি ছয় সাতেক লম্বা হবে। ধূপের পূজা নিয়ে মালা গলায় রবি ঠাকুর সারা দিন শোকেসের মাথায় বসে থেকে পরের দিন সকালে আবার সুড়ুত করে ট্রাঙ্কে ঢুকে পরতেন। গত বছর কবিগুরু তাঁর সেই পূজারিণীকে হারিয়েছেন। অভয়ের মা ইন্দুবালা ইহলোকের মায়া কাটিয়েছেন। #### এবছর মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই রোদের ঝাঁজ আর সেই সাথে আর্দ্রতা মিশে প্রাণ ওষ্ঠাগত হবার জোগাড়। নিপা প্রথম চা টা দিয়ে বলল, “এই হদ্দ গরমে বাজারে না গেলেও হত কিন্তু আজ যে বেস্পতিবার। ঠাকুরের ফুল মালা আর মিষ্টিটা এনে দিও”। পাশ থেকে ওদের মেয়ে খেয়ালী বলে উঠল, “বাবাই, একটা মালা বেশি এনো। আজ পঁচিশে বৈশাখ। আমি ঠাম্মুর ট্রাঙ্ক থেকে মূর্তিটা বের করে মুছে রেখেছি। ঠাম্মু থাকলে তো....... ”। একটা জলভরা মেঘ খেয়ালীর কণ্ঠরুদ্ধ করে অভয়ের বুকের মধ্যে হাহাকার তোলে। ঘরের আনাচে কানাচে বিষাদ ছেয়ে যায়। মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে অভয়। অস্ফুটে বলে, “খুব ভাল করেছিস, মা। গরম তো কোন ছার, ভূমিকম্প হলেও মালা এনে দেব রে। আনতে তো হবেই”।

Click Here Clap

No. of Clap : 0

Total Comments:1

Please Login to give comment

Avatar

samaresh parbat

May 16th, 2020 at 02:20 AM

হায়,