Avatar

অণু গল্প # প্রত্যাঘাত # (পার্থ রায়)

Partha Ray

----------------------------------------------- দরকারের সময় কলকাতা শহরে গাড়ি ঘোড়া ভ্যানিশ হয়ে যায়। অন্য সময়ে কানের কাছে প্যাঁ পোঁ, প্যাঁ পোঁ। ডিজগাস্টিং! বিদেশি ক্লায়েন্টদের সামনে প্রোজেক্ট ডেমনস্ট্রেশন, তাদের সাথে মিটিং সব সারতে সারতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। দশ মিনিট হয়ে গেছে অরণি ক্যাব বুক করেছে। জিপিএসে যা লোকেশন দেখাচ্ছে তাতে আরও মিনিট কয়েক। এর মধ্যে বার তিনেক মার ফোন এসেছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সেরকম শীত না পড়লেও চারদিকে একটা ধোঁয়াশা হয়ে আছে। রাস্তাঘাট শুনশান। আজ বাড়ি গেলে মায়ের এক প্রস্থ ঝড় সামলাতে হবে। বাবা মুখে কিছু বলে না। ভেতরে ভেতরে টেনশন করে। ওদের দোষ দেওয়া যায় না। যা হচ্ছে আজকাল। ধর্ষণ, খুন সেইসাথে আরও ভয়ঙ্কর জিনিষ পুড়িয়ে মারার একটা ট্রেন্ড হয়েছে আজকাল। রাত বিরেতে মেয়েদের একা চলাফেরা করা একটা দুঃসহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিস্টওয়াচে রাত্রি পৌনে বারোটা। সাঁই সাঁই করে প্রাইভেট গাড়িগুলো বেরিয়ে যাচ্ছে। নাহ! এবার একটা গাড়ি না কিনলে চলছে না। সেক্টর ফাইভে কলেজ মোড় বাস স্ট্যান্ডে নিয়ন আলো, দু চারটে কুকুর আর এক ঘোলা নিস্তব্ধতা। খিদেও পেয়েছে জব্বর। ব্যাগে একটা কেক আছে। “হাই সুইট হার্ট! চলে এসো। লিফট দিয়ে দিচ্ছি” চমকে উঠল অরণি। কেক আর জলের বোতল বের করতে গিয়ে খেয়াল করেনি কখন নিঃশব্দে সুজুকি ডিজায়ারটা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। গ্লাস নামানো। সামনের সিটে দুজন যুবক। দেখলেই বোঝা যায় অবস্থাপন্ন বাড়ির বখাটে। অরণি চট করে দেখে নিল গাড়ির ব্যাক সিট খালি। “থ্যাঙ্কস। ক্যাব বুক করেছি। চলে এলো বলে” গাড়ির দরজা খুলে গেল। একজন সামনে এসে জোর করে অরণির একটা হাত চেপে ধরল। “সে কি, সেক্সি? ম্যা হু না। আমরা থাকতে তুমি ক্যাবে যাবে? ছি, ছি”। “ছাড়ুন বলছি। নাহলে পুলিশ ডাকব”। “কেন সেক্সি? এই শীতের রাতে শুদুমুদু মামুদের কেন ডিস্টার্ব করা? তুমি আমাদের গরম করে দাও। আমি তোমার মুঠি ভরে দেব” অরণির সাথে ধ্বস্তাধস্তির মাঝে দ্বিতীয়জন গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে আসছে। দৃষ্টি স্থির রেখে নিঃশব্দে অরণি ব্যাগের মধ্যে হাত ঢোকায়। সামান্য কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে স্প্রিং ছুরির ফলা বিদ্যুৎ গতিতে প্রথমজনের গাল ছুঁয়ে যায়। ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে প্রথম যুবক আর্ত চিৎকার করে বেসামাল হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় জন কাছে আসতেই অরণি ছুরিটা বাগিয়ে ধরে। “ম্যাডাম, তুরন্ত অন্দর আইয়ে”। অরণি তাকিয়ে দেখে ক্যাব ড্রাইভার দরজা খুলে ডাকছে। ছুরিটা ডান হাতে উদ্যত রেখেই শরীর কিছুটা হেলিয়ে বাঁপাটা সপাটে দ্বিতীয় ব্যাক্তির হাঁটু লক্ষ্য করে চালিয়ে দিল। লোকটা কাটা কলা গাছের মত উপুড় হয়ে পড়ল। এক মুহূর্ত দেরি নাকরে অরণি সেলফোনে সুইফট ডিজায়ারের নাম্বার প্লেটের একটা স্ন্যাপ শট নিয়ে ট্যাক্সিতে উঠে বসল। “বাপরে আপ তো ঝাঁসি কি রাণী হ্যায়, দিদি। একদম ঠিক কিয়া। কাহাঁ জানা হ্যায়?” “জানা হ্যাঁয় লেক রোড। লেকিন পেহেলে আপ বিধাননগর পুলিশ স্টেশন চলিয়ে”। কুয়াশা, ধোঁয়াশা সরিয়ে তীব্র গতিতে উবেরটা ডাক হরকরার মত ছুটতে থাকে, যেন কোন নুতন বার্তা পেয়েছে।

Click Here Clap

No. of Clap : 0

Total Comments:0

Please Login to give comment